জীবনের ৭০ শতাংশেই প্রভাব বিস্তার করছে প্রযুক্তি : পলক

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৩:৫৬  

স্মার্ট মানবসম্পদ তৈরি ও স্টার্টআপ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ের কথা তুলে ধরেছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি জানিয়েছেন, শ্রম নির্ভরতা থেকে প্রযুক্তি নির্ভরতার মাধ্যমে গত ছয় বছরে প্রযুক্তি খাতে ২০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরী এবং ১৫ লাখ স্টার্টআপ সৃষ্টি সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরি করেছে সরকার। এর মাধ্যমে বিলিয়ন ডলার বিদেশী বিনিয়োগ এনেছে ৪০০টি স্টার্টআপ। আর এই ধারা অব্যাহত রাখতে এআই, ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এবং গ্রিন সার্কুলার ইকনোমির মতো নীতিমালা ও গাইড লাইন তৈরি করা হয়েছে। জাতিসংঘের সঙ্গে শুরু করেছে ওয়ান ফ্যামিলি ওয়ান সিড উদোগের অধীনে ১০ মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার গুলশানের একটি হোটেলে ওইসিডি (অর্গানাইজেশন ফর ইকোনোমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমন্ট) ডেভেলপমেন্ট সেন্টার প্রকাশিত স্টাডি প্রতিবেদন প্রকাশ পরবর্তী উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উৎপাদন প্রক্রিয়ার রূপান্তর নীতিমালা পর্যালোচনা নিয়ে তৈরি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওইসিডি। প্রতিবেদনে স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরে নীতিমালায় নিম্ন মজুরি ও উৎপাদন ব্যয় থেকে বেরিয়ে এসে উদ্ভাবন, আপগ্রেপ স্কিল ও ক্যাপাসিটি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারো করা হয়।

এসময় একটি উপস্থাপনায় পলক বলেন, আজকের বিশ্বে জীবনের প্রতিটি স্তরে বিশেষ করে ৭০ শতাংশেই প্রযুক্তি প্রভাব বিস্তার করছে। উপাত্ত নির্ভরতায় স্মার্ট হচ্ছে উৎপাদন প্রক্রিয়া। এই উপাত্তমুখিতায় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৫ শতাংশ। উৎপাদনশীলতা বেড়েছে ৩০ শতাংশ এবং এনার্জি কঞ্জামশন ২৫ শতাংশ কমেছে। চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে স্থানীয় উৎপাদনশীলতা ও প্রযুক্তির অগ্রণী ব্যবহারে প্রবৃদ্ধি বাড়বে।

এসময় প্রতিবেদনে উপস্থাপিত পরিসংখ্যানের পরামর্শ দিয়ে দেশে ৮০ শতাংশ ইন্টারনেট পেনিট্রেশন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এখন দেশের ১৩ কোটি লোক ইন্টারনেটে সংযুক্ত।

ওইসিডি প্রধান অ্যানালিসা প্রিমি’র সঞ্চালনায় আলোচনায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় রূপান্তরে আমরা ছয়টি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সরকার বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্বে এগিয়ে চলছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম । তিনি বলেন, এক্ষেত্রে মানবস্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অফিসের অধীনে অভিবাসীদের আপস্কেলিং, ন্যাশনাল স্কিল কাউন্সিল গঠন এবং তরুণ ইন্ডাস্ট্রি উপযোগী দক্ষ জনসম্পদে জোর দেয়া হয়েছে। স্বল্প শিক্ষিতদের স্বাস্থ্য, নার্সিং এর মতো খাতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই অবকাঠামো উন্নয়ন ও লজিস্টিক ও কানিক্টিভিটির উন্নয়ন করা হয়েছে। সম্প্রতি আমরা ইউরোপিয় ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে অর্থায়নের বিষয়ে কথা বলেছি। অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আইটি ও হাইটেক পার্কের মতো ১০০টি বিশেষ বিনিয়োগ জোন করা হয়েছে। আমরা এখন এনার্জি ও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনে ক্রসবর্ডার গ্রিড কো-অপারেশনে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

আলোচানায় আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, প্রতিযোগিতা কমিশন সদস্য হাফিজুর রহমান, এফবিসিসি আই প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম, র‌্যাপিড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক ও ইউএন টেকনোলজি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসফাচিউ তাফেরি।